চরমোনাইর ছাত্র আন্দোলনের তিন নারী ডাকসুতে লড়বেন। ইসলামী রাজনীতির নতুন মেরুকরণ!
আপলোড সময় :
০৯-০৮-২০২৫ ১২:০৯:১৫ অপরাহ্ন
ছবি ক্যাম্পাস টিভি
গত বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে সমসাময়িক পরিস্থিতি, ডাকসু নির্বাচন এবং তাদের প্যানেল ঘোষণা সংক্রান্ত বক্তব্য তুলে ধরে সংগঠনটি। ঘোষিত প্যানেলে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে মনোনীত হয়েছেন ইয়াছিন আরাফাত, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে খায়রুল আহসান মারজান এবং সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে সাইফ মোহাম্মদ আলাউদ্দিন। তাদের মধ্যে তিন ছাত্রী লড়বেন বলে তারা জনান। তারা হলেন জুরাইয়া আক্তার (মলিকুলার সাইন্স) মোসা. হাবিবা (ভাষাবিজ্ঞান) জাকিয়া মুন (প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন)।সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মো. আবু বক্কর সিদ্দিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন,আমাদের প্যানেল থেকে নির্বাচিত হলে- নারী শিক্ষার্থীদের হলে বৈদ্যুতিক পাখা অথবা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হবে। তবে এই বিষয়টিকে অনেকে কওমী ধারার রাজনীতি থেকে বের হয়ে সবর্জনীনীন ইসলামী রাজনীতির নতুন মেরুকরণ বলে মনে করছেন। প্রসংশা ও সমালোচনায় অনলাইণ প্লাটফর্ম সরগরম।
এছাড়া আরো যাদের নাম বলা হয়,আবু বকর (শিক্ষা ও গবেষণা), মোহাম্মদ আলী (ইসলামিক স্টাডিজ), প্লাবন আহমেদ (ইইই), আ. রহমান মাহফুজ (ইসলামিক স্টাডিজ), ইলিয়াস তালুকদার (আইবি), মুঈনুল ইসলাম (ইসলামের ইতিহাস), ইয়াসিন আরাফাত (সমাজবিজ্ঞান), ইমরান হোসাইন (ব্যাংকিং), ইসমাইল হোসাইন (ইসলামের ইতিহাস), সাব্বির আহমেদ (ইতিহাস), মানসুরুল হক শান্ত (ফিন্যান্স), শাহরিয়ার জাবির (আইন), ওমর ফারুক (ইসলামিক স্টাডিজ), আফজাল হোসাইন সিয়াম (আরবী), নূরুল জান্নাত মান্না (আরবী), ইকরামুল কবির (ইসলামিক স্টাডিজ), আরিয়ান মাহমুদ রাসেল (ইসলামিক স্টাডিজ), মোহাম্মদ রিয়াদ (ওএসএল), রেজাউল করিম (আরবী), এরফান মোহাম্মদ (জার্নালিজম), , আব্দুর রহিম (ইসলামিক স্টাডিজ) এবং আব্দুর রহমান মাহফুজ (ইসলামিক স্টাডিজ)।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্যানেল ঘোষণা দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মাহবুবুর রহমান নাহিয়ান।
সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মো. আবু বক্কর সিদ্দিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সব নাগরিক অধিকার নিশ্চিতে ছাত্র রাজনীতি সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। একইসঙ্গে ছাত্র রাজনীতির নামে হল দখল, সিট বাণিজ্য, গেস্ট রুম-গণরুম কালচার, চাঁদাবাজি, শিক্ষকদের মানহানি, ক্যাম্পাসকে মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত করা, খুন, ধর্ষণসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রতিযোগিতাও হয়েছে।
তিনি বলেন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ শিক্ষার্থীদের জন্য কল্যাণমূলক ছাত্র রাজনীতি চর্চা করে আসছে এবং বিগত প্রায় তিন যুগ যাবত সকল অপরাধপ্রবণতা থেকে মুক্ত থেকে শিক্ষার্থীবান্ধব ভূমিকা পালনের চেষ্টা করছে।
ডাকসু নির্বাচন ঘিরে পুঁজিবাদী আস্ফালন ও টাকার ছড়াছড়ির বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখার কথাও জানান তিনি।
নির্বাচনী ইশতেহারে প্যানেল থেকে নির্বাচিত হলে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হবে তা তুলে ধরেন তিনি।
নির্বাচন ইস্তেহারে তিনি আরো বলেন, আমাদের প্যানেল থেকে নির্বাচিত হলে- নারী শিক্ষার্থীদের হলে বৈদ্যুতিক পাখা অথবা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, রেজিস্ট্রার অফিসকে ডিজিটালাইজড করা; নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও সহনশীল শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত, শতভাগ আবাসন সুবিধা ও আবাসন মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, গবেষণাভিত্তিক স্কলারশিপ ও ল্যাব সুবিধা বৃদ্ধি, ডিজিটাল লাইব্রেরি ও স্মার্ট ক্লাসরুমের ব্যবস্থা, অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা সিস্টেম এবং পরবর্তী কার্যক্রমগুলোকে আরও উন্নত, বিভাগ ও হল পর্যায়ে দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধে ছাত্র-অভিযোগ সেল গঠন, মেডিকেল ব্যবস্থাকে উন্নত করার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় হেল্পলাইন ও কাউন্সেলিং সেবা চালু, ক্যারিয়ার গাইডেন্স, ইন্টার্নশিপ ও স্কিল ট্রেনিং নিশ্চিত, প্রতিটি শিক্ষার্থীর মাথাপিছু ব্যয়কে যথাযথ স্বচ্ছতার সহিত কাজে লাগানো, এবং সকল ছাত্রসংগঠনের রাজনৈতিক সহাবস্থান ও গঠনমূলক ছাত্ররাজনীতি প্রতিষ্ঠা করাসহ একটি গণমুখী ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে প্রশাসনকে বাধ্য করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
সামাজিক যোগাযেগ মাধ্যমে অনেক মতামত আসছে। জিয়া আল হায়দার লিখেছেন, “ছেলেদের হয়ে লড়তে হচ্ছে কেন? তাদের জন্য আলাদা ছাত্রী সংগঠন নাই কেন? তাদেরকে ব্যবহার করা গেলে আইডেনটিটি দিতে সমস্যা কোথায়? এই তিনজনকে দিয়েই কেন্দ্রীয় ইশা ছাত্রী কমিটি গঠন করে দেয়া যায় না? ডাকসুর প্রার্থীতা কাজে লাগিয়ে এরাই ঢাবি ও সারাদেশের ক্যাম্পাসগুলোতে মেয়েদের কমিটি গড়ে তুলতে পারবে।”
কমেন্ট বক্স